চল্লিশ বছর পর প্রাথমিক বিদ্যালয় পাচ্ছে গ্রামটি
- আপডেট সময় : ০১:৪০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১৪২ বার পড়া হয়েছে
প্রায় চল্লিশ বছর আগে মেঘনার ভাঙ্গনে নদীতে বিলীন হয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের ডেঙ্গুরকান্দি ও চরকমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তীকালে অন্যত্র শুরু হয় ওই দুটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। কিন্তু নদীর ওপারে পড়াতে যাতায়াত সমস্যায় বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় গ্রাম দুটির শিশুদের। এতে বেড়েছে নিরক্ষরতা ও শিশুশ্রম। এখন প্রায় চল্লিশ বছর পর এসে ডেঙ্গুরকান্দি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা আশার আলো দেখছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চল্লিশ বছর আগে মেঘনার ভাঙনে ডেঙ্গুরকান্দি ও চরকমলাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে নয়নাবাদ শাখা নদীর ওপারে আড়াইহাজারের শেষ প্রান্তে তাতুয়াকান্দা গ্রামে ডেঙ্গুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর করা হয়। আর চরকমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে ইসলামপুর গ্রামে স্থানান্তরিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গুরকান্দি ও চরকমলাপুর গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমন উপযোগী শিশু তিন শতাধিক। তাদের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ২৫-৩০ শিশুকে পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁও উপজেলার নুনেরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন তাদের অভিভাবকরা। কিছুসংখ্যক শিশু স্থানীয় মক্তব ও মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও অধিকাংশ শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শুধু নিজ গ্রামে বিদ্যালয় না থাকার কারণে। বর্তমানে ডেঙ্গুরকান্দি, চরকমলাপুর ও পার্শ্ববর্তী মধ্যেরহাট গ্রামে লোকসংখ্যা সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার। ডেঙ্গুরকান্দিতে বিদ্যালয় হলে এ তিন গ্রামের শিশুদের শিক্ষালাভের সুযোগ ঘটবে।
ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান সরকার জানান, ডেঙ্গুরকান্দি ও চরকমলাপুর গ্রাম দুই দিকে মেঘনাবেষ্টিত। নদীতে বিলীন হওয়ার পর বিদ্যালয় দুটি অন্যত্র স্থানান্তর হলে ওই গ্রাম দুটি থেকে তা অনেক দূরে চলে যায়। কাছাকাছি স্কুল না থাকায় অধিকাংশ শিশুই এখন লেখাপড়া করে না। ১০-১২ বছর আগেও ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হতো। দূরত্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এখন আর কেউ আসে না। ওই দুটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশুর সংখ্যা তিন শতাধিক হবে তিনি ধারণা করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ডেঙ্গুরকান্দি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা খাগকান্দা ইউপির সাবেক সদস্য আব্দুল হক সাব, মো. আনোয়ার হোসেন, মিছির আলী, মোতালিব মুন্সী, আবু তালেব, শহর আলী, মাসুম আলীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁর কাছে স্কুলের অভাবে শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই সময় নজরুল ইসলাম আজাদ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে দেবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচিত হওয়ার পর নজরুল ইসলাম আজাদ তাঁর ভাই স্টার্কট্রি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল ইসলামকে ডেঙ্গুরকান্দি এলাকায় পাঠান। তিনি সেখানে গিয়ে স্কুলের স্থান নির্ধারণের জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। রাকিবুল ইসলাম গত শনিবার ডেঙ্গুরকান্দি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সবার মতামত নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের সহযোগিতায় স্কুল স্থাপনের জন্য ৩২ শতাংশ পরিমাণ একটি জায়গা নির্ধারণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, গ্রামের সবাই আমার ৩২ শতাংশের জমিটি পছন্দ করেছেন। আমি এই জমি বিদ্যালয়ের জন্য দিয়ে দেব। এমপি সাহেব নির্বাচনের আগে যে কথা দিয়েছেন নির্বাচনের পরপরই বিদ্যালয় নির্মাণে এত দ্রুত উদ্যোগ নেবেন আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, নির্বাচনে আমি যেসব ওয়াদা দিয়েছি, পর্যায়ক্রমে সব পালন করব। ১০০ দিনের কর্মসূচিতে ডেঙ্গুরকান্দি গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের অঙ্গীকার করেছিলাম। জায়গা নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবকাঠামোসহ বিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন করতে পারব। শিশুরা আনন্দ নিয়ে নিজ গ্রামের বিদ্যালয়ে যাবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের মানববন্ধন
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পানির নিচে: চরম ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী ও বাসিন্দা
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম অর্ধবেলা বন্ধ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির প্রস্তাবপত্র হস্তান্তর করেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রকল্প উপদেষ্টা আধূনিক বাংলাদেশ এর ব্রান্ড এম্বাসেডর মো নিয়ামত আলী
আন্তর্জাতিক মানের স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা
তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ
আন্তর্জাতিক মানের স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































