ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফল প্রত্যাখান নয়, অভিযোগের নিষ্পত্তি চান জামায়াত আমির

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ফাইল

কিছু আসনের ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছেন না জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। যেসব আসন নিয়ে জামায়াত জোট প্রশ্ন তুলেছে, সেগুলো আইনি পন্থায় নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা চালাবেন জানিয়ে, সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতির দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেছেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে। আমরা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দেই এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। তবে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল আরও গভীর ও জটিল বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে।

শফিকুর রহমান লিখেছেন, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে লাখ লাখ ভোট কাঠামোগতভাবে যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। ৫৩টি আসনে বিএনপি জোট কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে।

জামায়াত আমির লিখেছেন, কয়েকটি আসনের ফলাফল নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং আমরা আইনের আওতায় বৈধ সকল পন্থায় প্রচেষ্টা চালাবো। এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট যেসব আসন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেখানে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা।

শফিকুর রহমান লিখেছেন, যেখানেই ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে জামাত জোটের প্রতিনিধিরা আইনগত কাঠামোর মধ্যে পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারে চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট অবশ্যই সঠিকভাবে গণনা করা এবং প্রতিটি সংগত উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।

নতুন সরকার গণভোটের ফলাফলকে সম্মান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, অনক ত্যাগ ও সংস্কারের চেতনায় প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। যা স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। আমরা আশা করি, নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে এবং সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে শাসন পরিচালনা করবে। সংস্কার কোনো স্লোগান নয়,আমানত।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, তারা যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রত্যাশা, যেখানেই সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই তারা যেন শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে।

সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, তারা যেন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করেন, সংবিধানের নিয়মের মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা করবেন। আইন লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মীকে পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই জবাবদিহির আওতায় আনবেন।

শফিকুর রহমান বলেছেন, শান্ত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করি, জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করি এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখি, যেখানে ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয় সততা, সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফল প্রত্যাখান নয়, অভিযোগের নিষ্পত্তি চান জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০১:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিছু আসনের ভোট গণনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছেন না জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। যেসব আসন নিয়ে জামায়াত জোট প্রশ্ন তুলেছে, সেগুলো আইনি পন্থায় নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা চালাবেন জানিয়ে, সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতির দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেছেন, বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে। আমরা এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দেই এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করি। তবে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল আরও গভীর ও জটিল বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে।

শফিকুর রহমান লিখেছেন, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে জামায়াত শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিতে লাখ লাখ ভোট কাঠামোগতভাবে যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। ৫৩টি আসনে বিএনপি জোট কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে।

জামায়াত আমির লিখেছেন, কয়েকটি আসনের ফলাফল নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং আমরা আইনের আওতায় বৈধ সকল পন্থায় প্রচেষ্টা চালাবো। এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যান নয়, বরং নির্দিষ্ট যেসব আসন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেখানে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা রক্ষার দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা।

শফিকুর রহমান লিখেছেন, যেখানেই ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে জামাত জোটের প্রতিনিধিরা আইনগত কাঠামোর মধ্যে পুনর্গণনা ও আইনি প্রতিকারে চেষ্টা করছেন। প্রতিটি ভোট অবশ্যই সঠিকভাবে গণনা করা এবং প্রতিটি সংগত উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।

নতুন সরকার গণভোটের ফলাফলকে সম্মান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, অনক ত্যাগ ও সংস্কারের চেতনায় প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। যা স্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। আমরা আশা করি, নতুন সরকার এই ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে এবং সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে শাসন পরিচালনা করবে। সংস্কার কোনো স্লোগান নয়,আমানত।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, তারা যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রত্যাশা, যেখানেই সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই তারা যেন শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে।

সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, তারা যেন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করেন, সংবিধানের নিয়মের মধ্যে থেকে দেশ পরিচালনা করবেন। আইন লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মীকে পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই জবাবদিহির আওতায় আনবেন।

শফিকুর রহমান বলেছেন, শান্ত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যাই। প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করি, জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করি এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখি, যেখানে ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয় সততা, সংযম ও জবাবদিহিতার সঙ্গে।