হাকালুকি হাওরে জলচর পাখি বেড়েছে, কমেছে শিকার ও বিষটোপ
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের বৃহত্তম হাওরগুলোর একটি হাকালুকি। এখানে চলতি বছর জলচর পাখির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে আগের বছরগুলোর মতো বিষটোপ বা নিষিদ্ধ জালে আটকে পাখি মারা যাওয়ার ঘটনা তেমন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন পাখি গবেষকরা।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের ১২ সদস্যের একটি দল গত ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি হাওরটির ৪৩টি বিলে দুই দিনব্যাপী পাখিশুমারি চালায়। এ কাজে সহযোগিতা করে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও নবপল্লব।
শুমারির তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত দীপু বলেন, এ বছর হাওরটিতে ৫৩ প্রজাতির মোট ৫৪ হাজার ৪৮৬টি জলচর পাখির দেখা মিলেছে। এর মধ্যে ১৮টি স্থানীয় এবং ৩৫টি পরিযায়ী প্রজাতির। তিনি বলেন, গতবারের শুমারিতে হাওরটিতে ৬০ প্রজাতির ৩৫ হাজার ২৬৮টি পাখি পাওয়া গিয়েছিল। সে তুলনায় এবার প্রজাতি কিছুটা কম হলেও মোট পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শুমারিতে দেখা গেছে, হাওরের চিনাউরা, হাওর খালসহ কয়েকটি বিলে পরিবেশ তুলনামূলক ভালো রয়েছে। এসব বিলে এখনও পর্যাপ্ত পানি আছে। সীমান্ত দীপুর ধারণা, অন্য হাওরগুলোতে পানি কমে যাওয়ায় অনেক পাখি এদিকেই আশ্রয় নিয়েছে।
গত বছর শুমারির সময় হাওরের নাগুয়া-লরিবাই বিলে পাখি শিকারের জন্য প্রায় ১০০ মিটার লম্বা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পাওয়া যায়। ওই জালে আটকে মারা গিয়েছিল দুটি টিমেঙ্কের চাপাখি। পরে শুমারি দলের সদস্যরা জালটি পুড়িয়ে ধ্বংস করেন। একই সময় পিংলা বিলের পাশে ‘কার্বোটাফ’ নামে এক ধরনের রাসায়নিক কীটনাশকের প্যাকেটও পাওয়া যায়। ধানের সঙ্গে মিশিয়ে ওই বিষ বিলের আশপাশে ছিটিয়ে রাখা হতো। পাখিরা খাবার ভেবে তা খেয়ে মারা যেত।
তবে এ বছর সেই চিত্র দেখা যায়নি। সীমান্ত দীপু বলেন, আগে প্রায় প্রতিবছরই হাওরটিতে ৪০ থেকে ৫০টি মৃত পাখি পাওয়া যেত। কিন্তু এবারের শুমারিতে এমন ঘটনা চোখে পড়েনি। তাঁর মতে, স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানের নজরদারির কারণে পাখি শিকার কমে থাকতে পারে।
বার্ড ক্লাব সূত্রে জানা যায়, সরকার ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া-ইসিএ) ঘোষণা করে। এরপর থেকে হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাখিশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হাওরটিতে ৫২ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৭৭৮টি, ২০২২ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৬ হাজার ৫০১টি, ২০২১ সালে ৪৫ প্রজাতির ২৪ হাজার ৫৫১টি এবং ২০২০ সালে ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬টি জলচর পাখির দেখা মিলেছিল। ২০২৪ সালে সেখানে কোনো শুমারি হয়নি।
প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ হাওরের অবস্থান। শীত মৌসুমে দেশি ও পরিযায়ী অসংখ্য পাখির আবাসস্থল হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত: বিশেষ অতিথি মোঃ নিয়ামত আলী
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের মানববন্ধন
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পানির নিচে: চরম ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী ও বাসিন্দা
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম অর্ধবেলা বন্ধ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির প্রস্তাবপত্র হস্তান্তর করেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রকল্প উপদেষ্টা আধূনিক বাংলাদেশ এর ব্রান্ড এম্বাসেডর মো নিয়ামত আলী
আন্তর্জাতিক মানের স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা
তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ
আন্তর্জাতিক মানের স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা






























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































