ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় জামায়াত আমির

সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব। যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, তাদের আমরা কাজ দিতে চাই। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এখানে তো যুবকের বাইরে কাউকে দেখছি না। আপনাদের সঙ্গে আমিও যুবক।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর ঐতিহাসিক এ.টিম মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভোটের দিন পরাজিত করবে জনগণ। শিক্ষিত জাতি তৈরি করতে কাজ করবে জামায়াত। আমরা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যারা পরিবারতান্ত্রিক সরকার চায়, তারাই আইডি হ্যাক করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র এবং মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, কুসুম্বা মসজিদ ও দুপলাহাটি রাজবাড়ির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অবহেলা আর দুর্নীতির কারণে দেশের পর্যটনশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

বিগত সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে দেশে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। ব্যাংক, বিমা ও শেয়ার বাজার লুটে নিয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই টাকার মালিক জনগণ। যারা জনগণের টাকা চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজ ও পেইন ডাকাতদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আপস নেই।

নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি বলেন, মায়েদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। তিনি ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল—সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা সাঁওতাল বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না; নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁয় জামায়াত আমির

সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব

আপডেট সময় : ০১:১৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব। যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, তাদের আমরা কাজ দিতে চাই। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এখানে তো যুবকের বাইরে কাউকে দেখছি না। আপনাদের সঙ্গে আমিও যুবক।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর ঐতিহাসিক এ.টিম মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের ভোটের দিন পরাজিত করবে জনগণ। শিক্ষিত জাতি তৈরি করতে কাজ করবে জামায়াত। আমরা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যারা পরিবারতান্ত্রিক সরকার চায়, তারাই আইডি হ্যাক করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র এবং মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, কুসুম্বা মসজিদ ও দুপলাহাটি রাজবাড়ির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অবহেলা আর দুর্নীতির কারণে দেশের পর্যটনশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

বিগত সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে দেশে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। ব্যাংক, বিমা ও শেয়ার বাজার লুটে নিয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই টাকার মালিক জনগণ। যারা জনগণের টাকা চুরি ও ডাকাতি করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজ ও পেইন ডাকাতদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আপস নেই।

নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি বলেন, মায়েদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। তিনি ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল—সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা সাঁওতাল বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না; নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।