ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভর্নরকে অর্থ উপদেষ্টার চিঠি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন সম্ভব নয়

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫১ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন সম্ভব নয় বলে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে চিঠি দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধনের প্রস্তাব আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর মতো একটি মৌলিক আইনে ব্যাপক সংশোধনী আনা বাস্তবসম্মত হবে না। পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী এ আদেশটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়াই অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন দিক—বিশেষ করে শীর্ষ পদসমূহে নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়া, গভর্নরের পদমর্যাদা বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের কাঠামোগত পরিবর্তন, প্রজাতন্ত্রের আর্থিক দায় সৃষ্টির স্বাধীনতা এবং স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থার একটি মৌলিক আইন, তাই এ আইনে কোনো সংশোধন আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিকতা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য সংশোধনীসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা সমীচীন বলে উল্লেখ করা হয়।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং এর নীতিগত স্বাধীনতা সুসংহত করার প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এর আগে নিজের স্বায়ত্তশাসন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখতে সরকারের কাছে ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৯ অক্টোবর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে পাঠানো এক আধা-সরকারি চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের একটি খসড়া তুলে ধরেন। চিঠির অনুলিপি অর্থ সচিব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকেও দেওয়া হয়।

বিস্তারিত যুক্তিসহ প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বের মর্যাদা বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের পুনর্গঠন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের সুপারিশ করা হয়।

চিঠিতে গভর্নর প্রস্তাব করেন, সাবেক অর্থ বা পরিকল্পনামন্ত্রী বা উপদেষ্টা, অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বা বিদায়ী গভর্নরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হোক, যারা নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবে। তার মতে, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা, যা একটি আধুনিক ও স্বায়ত্তশাসিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌলিক শর্ত।

উদাহরণ হিসেবে তিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ব্যাংক অব কানাডা, সাউথ আফ্রিকান রিজার্ভ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের নাম উল্লেখ করেন।

এছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত আদালত গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কেবল আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের অপসারণ নিশ্চিত করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গভর্নরকে অর্থ উপদেষ্টার চিঠি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন সম্ভব নয়

আপডেট সময় : ০১:৫১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন সম্ভব নয় বলে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে চিঠি দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধনের প্রস্তাব আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২-এর মতো একটি মৌলিক আইনে ব্যাপক সংশোধনী আনা বাস্তবসম্মত হবে না। পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী এ আদেশটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়াই অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিভিন্ন দিক—বিশেষ করে শীর্ষ পদসমূহে নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়া, গভর্নরের পদমর্যাদা বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের কাঠামোগত পরিবর্তন, প্রজাতন্ত্রের আর্থিক দায় সৃষ্টির স্বাধীনতা এবং স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থার একটি মৌলিক আইন, তাই এ আইনে কোনো সংশোধন আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিকতা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য সংশোধনীসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা সমীচীন বলে উল্লেখ করা হয়।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং এর নীতিগত স্বাধীনতা সুসংহত করার প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এর আগে নিজের স্বায়ত্তশাসন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখতে সরকারের কাছে ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৯ অক্টোবর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে পাঠানো এক আধা-সরকারি চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের একটি খসড়া তুলে ধরেন। চিঠির অনুলিপি অর্থ সচিব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকেও দেওয়া হয়।

বিস্তারিত যুক্তিসহ প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বের মর্যাদা বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের পুনর্গঠন এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের সুপারিশ করা হয়।

চিঠিতে গভর্নর প্রস্তাব করেন, সাবেক অর্থ বা পরিকল্পনামন্ত্রী বা উপদেষ্টা, অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক বা বিদায়ী গভর্নরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হোক, যারা নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবে। তার মতে, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা, যা একটি আধুনিক ও স্বায়ত্তশাসিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌলিক শর্ত।

উদাহরণ হিসেবে তিনি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ব্যাংক অব কানাডা, সাউথ আফ্রিকান রিজার্ভ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের নাম উল্লেখ করেন।

এছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত আদালত গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কেবল আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের অপসারণ নিশ্চিত করা যায়।