মূল অংশে যান

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পানির নিচে: চরম ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী ও বাসিন্দা

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একাংশ তলিয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ও জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের চন্দনাইশ অংশের দক্ষিণ হাসিমপুর বড় পাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে আলোকিত কনভেনশন হল পর্যন্ত এলাকা প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

চলতি বন্যা ও সড়ক পরিস্থিতি
    • কোমরসমান পানি: কক্সবাজার থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দূরত্বে মহাসড়কের ওপর দিয়ে হাঁটুসমান থেকে কোমরসমান তীব্র বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
    • যানবাহন স্থবির: বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন পানির মধ্য দিয়ে ধীরগতিতে চলায় দুই পাশে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ গাড়ির সারি তৈরি হয়েছে।
    • হেঁটে পথ চলা: দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় নিরুপায় হয়ে অনেক যাত্রীকে কাপড়-চোপড় ও মালামালের ব্যাগ মাথায় নিয়ে পানি ভেঙে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।

আশেপাশের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
    • ফসলি জমি প্লাবিত: মহাসড়কের দুই পাশের নিচু এলাকা, শত শত ঘরবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
    • সড়কে মাছ শিকার: জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা এতটাই তীব্র যে, স্থানীয় অনেক বাসিন্দাকে মহাসড়কের আশেপাশের প্লাবিত প্লাবনভূমিতে জাল দিয়ে মাছ ধরতেও দেখা গেছে।

দুর্ভোগের কারণ ও স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়ক সম্প্রসারণ হলেও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এই দুর্ভোগ নিয়মিত রূপ নিয়েছে। এই মহাসড়কটি সচল রাখতে এবং জনপদকে বাঁচাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের একটি স্থায়ী ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

মতামত দিন