ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা। ছবি : সিএ প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারে থাকা ঠিক না। কারণ, তাঁর মন একটা কাঠামোর মধ্যে ফিক্সড হয়ে গেছে। এর থেকে সে বেরোতে পারে না। নতুন লোক যারা বাইরে থেকে দেখছে, তাদের নিয়ে আসতে হবে।’

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোর উদ্বোধন এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’–এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

গোটা পৃথিবী খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, প্রযুক্তির গতি এত দ্রুত, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি নীতি প্রণয়নকারী দ্রুত গতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যক্তি পাল্টাচ্ছে না। কাজেই যারা পরিবর্তনগুলো দেখেছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে যদি এমন লোক আসে, প্রযুক্তি সম্বন্ধে যার বোঝাপড়া হয়েছিল ৩০ বছর আগে, ৩০ বছরে তো সারা দুনিয়া পাল্টে যায়। সে তখন যা পেয়েছে, সেটাই তার কাছে আছে। এটা তার দোষ নয়। সে এটা অনুভব করার সুযোগ পায় নাই। কাজেই যে অনুভব করছে, সে যেন আসতে পারে।  প্রতিনিয়ত পরিবর্তন, প্রতিনিয়ত নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি গড়ে দিতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সরকারের কথা চিন্তা করেন। সরকার কতই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। হাসি পায়। পুরোনো বস্তা কাইটা সে নিয়মনীতি নিয়ে আসে। এটার ওপরে সংশোধন করতে হবে। মূলটা পাল্টায় না। ওই যে ব্রিটিশ সরকার ধরিয়ে দিয়ে গেছে যে নীতি, ওই নীতির ওপরে এসব সংশোধন হচ্ছে। মূল জিনিসেই তো গোলমাল। নতুন করে বানাতে অসুবিধা কী? সেই পরিবর্তনে কেউ যায় না। সব ঠেকার কাজ করে। …রাজনীতিবিদও তাই।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ১০ বছর পরপর নতুন করে গড়ে তোলা উচিত। একদম গোড়া থেকে। কারণ, এ সময়ে পৃথিবী বদলে গেছে, নিয়মকানুন ও লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে, সে সেখানে স্থির হয়ে বসে আছে। এই পরিবর্তনগুলো আসতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের ধর্ম হলো পুরোনোকে আঁকড়ে রাখা। আর প্রযুক্তির কাজ হলো সেই পুরোনো কাঠামো ফেলে দেওয়া। এই দ্বন্দ্বে প্রযুক্তিকেই জয়ী হতে হবে। নইলে আমরা জেতার সুযোগ হারাব। আমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে, কিন্তু আমরা ফলোয়ার হয়ে বসে আছি। যার কারণে আমরা প্রযুক্তি বুঝি, কিন্তু কোনো জায়গা পাচ্ছি না।’

বাংলাদেশ জালিয়াতিতে পৃথিবী চ্যাম্পিয়ন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সব জিনিস জাল। বহু দেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না। ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল, একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি আমরা। আমাদের বুদ্ধি আছে, কিন্তু সেটা খারাপ কাজে লাগাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি থাকা ঠিক না: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০১:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারে থাকা ঠিক না। কারণ, তাঁর মন একটা কাঠামোর মধ্যে ফিক্সড হয়ে গেছে। এর থেকে সে বেরোতে পারে না। নতুন লোক যারা বাইরে থেকে দেখছে, তাদের নিয়ে আসতে হবে।’

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোর উদ্বোধন এবং ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’–এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

গোটা পৃথিবী খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, প্রযুক্তির গতি এত দ্রুত, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি নীতি প্রণয়নকারী দ্রুত গতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যক্তি পাল্টাচ্ছে না। কাজেই যারা পরিবর্তনগুলো দেখেছে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে যদি এমন লোক আসে, প্রযুক্তি সম্বন্ধে যার বোঝাপড়া হয়েছিল ৩০ বছর আগে, ৩০ বছরে তো সারা দুনিয়া পাল্টে যায়। সে তখন যা পেয়েছে, সেটাই তার কাছে আছে। এটা তার দোষ নয়। সে এটা অনুভব করার সুযোগ পায় নাই। কাজেই যে অনুভব করছে, সে যেন আসতে পারে।  প্রতিনিয়ত পরিবর্তন, প্রতিনিয়ত নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি গড়ে দিতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সরকারের কথা চিন্তা করেন। সরকার কতই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে। হাসি পায়। পুরোনো বস্তা কাইটা সে নিয়মনীতি নিয়ে আসে। এটার ওপরে সংশোধন করতে হবে। মূলটা পাল্টায় না। ওই যে ব্রিটিশ সরকার ধরিয়ে দিয়ে গেছে যে নীতি, ওই নীতির ওপরে এসব সংশোধন হচ্ছে। মূল জিনিসেই তো গোলমাল। নতুন করে বানাতে অসুবিধা কী? সেই পরিবর্তনে কেউ যায় না। সব ঠেকার কাজ করে। …রাজনীতিবিদও তাই।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ১০ বছর পরপর নতুন করে গড়ে তোলা উচিত। একদম গোড়া থেকে। কারণ, এ সময়ে পৃথিবী বদলে গেছে, নিয়মকানুন ও লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে, সে সেখানে স্থির হয়ে বসে আছে। এই পরিবর্তনগুলো আসতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের ধর্ম হলো পুরোনোকে আঁকড়ে রাখা। আর প্রযুক্তির কাজ হলো সেই পুরোনো কাঠামো ফেলে দেওয়া। এই দ্বন্দ্বে প্রযুক্তিকেই জয়ী হতে হবে। নইলে আমরা জেতার সুযোগ হারাব। আমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে, কিন্তু আমরা ফলোয়ার হয়ে বসে আছি। যার কারণে আমরা প্রযুক্তি বুঝি, কিন্তু কোনো জায়গা পাচ্ছি না।’

বাংলাদেশ জালিয়াতিতে পৃথিবী চ্যাম্পিয়ন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সব জিনিস জাল। বহু দেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না। ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল, একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি আমরা। আমাদের বুদ্ধি আছে, কিন্তু সেটা খারাপ কাজে লাগাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।