বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে হত্যার ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০১:৫২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫১ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দির সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ওই কিশোরীর বাড়ি বরিশালে। সে তার বাবার সঙ্গে মাধবদীর একটি টেক্সটাইল কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। চাকরির সুবাদে তারা মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গতকাল রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম মাধবদী থানায় মামলাটি করেন। এরই মধ্যে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার নরসিংদীর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক।
নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
নিহতের স্বজন জানান, বিলপাড় এলাকার স্থানীয় যুবক নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা প্রায়ই আমেনাকে উত্ত্যক্ত করত। বিয়েরও প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নুরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল কারখানা থেকে ফেরার পথে আমেনাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল আহমেদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা করা হয়। তবে আমেনার পরিবার ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ ছিল নুরা।
নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, গত বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় তার খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথে বরইতলায় পৌঁছলে নুরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয় যুবক তাঁর কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানান। সকালে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেতে আমেনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, নুরা বিয়ের জন্য চাপ দিলে আমেনা রাজি হয়নি। ১৫ দিন আগে নুরা ও তার সহযোগীরা আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে তারা হুমকি দিচ্ছিল কেন ধর্ষণের বিচার চেয়েছি। বুধবার রাতে আবার নুরা ও তার সহযোগীরা আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। সকালে জানতে পারলাম আমেনার লাশ পাওয়া গেছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আহমেদ বলেন, মেয়েটির পরিবারের অনুরোধে ধর্ষণের ঘটনার মীমাংসা হয়েছিল। বুধবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবার আমার কাছে আবার অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। আমি বাসায় ছিলাম না। এখন যেহেতু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। তার পরিবারের সদস্যদেরও পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার বা পরিবারের কারও বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর মেয়েটির পরিবার ইউপি সদস্যদের কাছে বিচার না চেয়ে থানায় আসার দরকার ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন এবাদুল্লাহ, আহম্মদ আলী, ইমরান দেওয়ান ও মো. আইয়ুব। তারা সবাই এজাহারভুক্ত আসামি। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের মুক্তির দাবিতে কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের মানববন্ধন
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পানির নিচে: চরম ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী ও বাসিন্দা
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম অর্ধবেলা বন্ধ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির প্রস্তাবপত্র হস্তান্তর করেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রকল্প উপদেষ্টা আধূনিক বাংলাদেশ এর ব্রান্ড এম্বাসেডর মো নিয়ামত আলী
আন্তর্জাতিক মানের স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা
তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ
আন্তর্জাতিক মানের স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা





























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































