ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের ১৯তম দিন

ইসরায়েলে ক্লাস্টারের আঘাত, বিস্ফোরণে কম্পিত তেহরান

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১২:২০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ও আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ইসরায়েলে ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে ইসরায়েলে দুজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলও ইরান-লেবাননজুড়ে হামলা তীব্রতর করেছে। এরই মধ্যে গতকাল বুধবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিবকে হত্যার করার দাবি করেছে ইসরায়েল। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন।

অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে বাঙ্কার ভেদ করতে সক্ষম ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বোমা ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যায় ইসরায়েলি বাহিনী অনুমোদনপ্রাপ্ত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের’ যা অবশিষ্ট আছে তা ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী রয়েছে এবং নেতাদের হত্যাকাণ্ড আমাদের পিছিয়ে দেবে না। ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। তাছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর দিয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রয়েছে। দুবাই, কাতার, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণ শোনা গেছে। ড্রোন প্রতিহত করার খবরও পাওয়া গেছে। তেহরানের বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিত্য আতঙ্কের মধ্যে বাস করতে হচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হওয়া মানে জীবন হাতে নিয়ে হাঁটা। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং আরেকটি মধ্য ইসরায়েলে ভূপাতিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, গত বছরের জুনের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের কোনো প্রচেষ্টা দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটিকে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর তুর্কি কুর্দি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি পুনরায় চালু করেছে ইরাক।
দেশটি একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা তুরস্কের জেহান টার্মিনালের মাধ্যমে তেল রপ্তানির অনুমতি দেবে। এর ফলে একটি বড় উৎপাদন সংকট প্রশমিত হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

সৌদি আরব ও ইরাকে আরও দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। তাদের মধ্যে ইরাকে গত মঙ্গলবার হামলার পরপরই একজনের মৃত্যু হয়। গত ৮ মার্চ সৌদি আরবে হামলায় আহত ব্যক্তি গত মঙ্গলবার রাতে মারা যান। এ নিয়ে সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৭ বাংলাদেশির প্রাণ গেছে।

এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা  ২,৪৯৩। এর মধ্যে ইরানের ১,৪৫০,

ইসরায়েলের ১৭, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪, বাহরাইনের ২, ওমানের ৩, সৌদি আরবের ৩, লেবাননের ৯২৪, আরব আমিরাতের ৮, কুয়েতের ৬, ইরাকের ৫৮ এবং সিরিয়ার ৮ জন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুদ্ধের ১৯তম দিন

ইসরায়েলে ক্লাস্টারের আঘাত, বিস্ফোরণে কম্পিত তেহরান

আপডেট সময় : ১২:২০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলের হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ও আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ইসরায়েলে ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে ইসরায়েলে দুজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলও ইরান-লেবাননজুড়ে হামলা তীব্রতর করেছে। এরই মধ্যে গতকাল বুধবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিবকে হত্যার করার দাবি করেছে ইসরায়েল। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন।

অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে বাঙ্কার ভেদ করতে সক্ষম ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বোমা ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যায় ইসরায়েলি বাহিনী অনুমোদনপ্রাপ্ত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের’ যা অবশিষ্ট আছে তা ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী রয়েছে এবং নেতাদের হত্যাকাণ্ড আমাদের পিছিয়ে দেবে না। ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। তাছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর দিয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রয়েছে। দুবাই, কাতার, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণ শোনা গেছে। ড্রোন প্রতিহত করার খবরও পাওয়া গেছে। তেহরানের বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিত্য আতঙ্কের মধ্যে বাস করতে হচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হওয়া মানে জীবন হাতে নিয়ে হাঁটা। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং আরেকটি মধ্য ইসরায়েলে ভূপাতিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, গত বছরের জুনের হামলার পর ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের কোনো প্রচেষ্টা দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটিকে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর তুর্কি কুর্দি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি পুনরায় চালু করেছে ইরাক।
দেশটি একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা তুরস্কের জেহান টার্মিনালের মাধ্যমে তেল রপ্তানির অনুমতি দেবে। এর ফলে একটি বড় উৎপাদন সংকট প্রশমিত হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালি অবরোধের পর দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

সৌদি আরব ও ইরাকে আরও দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। তাদের মধ্যে ইরাকে গত মঙ্গলবার হামলার পরপরই একজনের মৃত্যু হয়। গত ৮ মার্চ সৌদি আরবে হামলায় আহত ব্যক্তি গত মঙ্গলবার রাতে মারা যান। এ নিয়ে সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৭ বাংলাদেশির প্রাণ গেছে।

এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা  ২,৪৯৩। এর মধ্যে ইরানের ১,৪৫০,

ইসরায়েলের ১৭, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪, বাহরাইনের ২, ওমানের ৩, সৌদি আরবের ৩, লেবাননের ৯২৪, আরব আমিরাতের ৮, কুয়েতের ৬, ইরাকের ৫৮ এবং সিরিয়ার ৮ জন রয়েছে।