ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

বিএনপির অনেকে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থা নিয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

রংপুর নগরীর শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম (বাম থেকে চতুর্থ)।

বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকতে বললেও দলটির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

সোমবার রাতে রংপুর মহানগরীর পার্কের মোড়ের শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ জোট আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে নিষেধ করে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা কার নির্দেশে হয়েছে—এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনারদের প্রশ্ন করতে চাই—আপনারা কোন ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন? জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আপনারা দায়িত্বে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপন আমরা দেখেছি, যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে পারবেন না। আমরা বলতে চাই, এই ধরনের তথাকথিত সুশীলগিরি স্বাধীন বাংলাদেশে চলবে না। কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনও রাষ্ট্রের ভেতরে ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়ে গেছে। দিল্লির দালালরা নতুন বাংলাদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। তারা পুরোনো কাঠামো রেখে দিতে চায়। আমরা জীবিত থাকতে তা হতে দেব না। নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে বলছি, এই অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। রাষ্ট্রের উদ্যোগে সব নাগরিকের মাঝে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন চালাতে হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সাদিক কায়েম বলেন, আমাদের খারাপ লাগে—যারা গত ১৬ বছর মজলুম ছিলেন, যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তারা আজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে ভয় পাচ্ছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে বলা হলেও তৃণমূলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে তাদের অনেকে নেতাকর্মীরা ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। বিপ্লবী বাংলাদেশে এই ধরনের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চলবে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে বড় বড় স্টেজ হচ্ছে, লাখ লাখ লিফলেট ছাপানো হচ্ছে—কিন্তু কোথাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্লোগান নেই। যদি জুলাইকে ধারণ করতে চান, যদি নতুন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চান, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’- এর পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, এই স্বাধীন বাংলাদেশে পরিবারতন্ত্র চলবে না। দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। রিকশাচালক, শ্রমিকের সন্তান যদি যোগ্য হয়, তাদেরও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তৈরি করতে হবে। এটাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর মূল দর্শন।

তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে ইনসাফ, আজাদি ও ন্যায়বিচার। ‘হ্যাঁ’ মানে জুলাই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা; অবৈধ নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী কাঠামো ও পরিবারতন্ত্রের অবসান। যারা গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও দমন, পীড়নের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব, রাকসু এজিএস সাব্বির হোসেন, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. মোহাম্মদ হোসেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. ইলিয়াস প্রামাণিক, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর সভাপতি নুরুল হুদা, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সুমন সরকার প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

বিএনপির অনেকে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থা নিয়েছে

আপডেট সময় : ০১:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকতে বললেও দলটির তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

সোমবার রাতে রংপুর মহানগরীর পার্কের মোড়ের শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ জোট আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে নিষেধ করে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা কার নির্দেশে হয়েছে—এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কার করতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনারদের প্রশ্ন করতে চাই—আপনারা কোন ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন? জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আপনারা দায়িত্বে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপন আমরা দেখেছি, যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে পারবেন না। আমরা বলতে চাই, এই ধরনের তথাকথিত সুশীলগিরি স্বাধীন বাংলাদেশে চলবে না। কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনও রাষ্ট্রের ভেতরে ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়ে গেছে। দিল্লির দালালরা নতুন বাংলাদেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। তারা পুরোনো কাঠামো রেখে দিতে চায়। আমরা জীবিত থাকতে তা হতে দেব না। নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে বলছি, এই অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। রাষ্ট্রের উদ্যোগে সব নাগরিকের মাঝে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন চালাতে হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সাদিক কায়েম বলেন, আমাদের খারাপ লাগে—যারা গত ১৬ বছর মজলুম ছিলেন, যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তারা আজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে ভয় পাচ্ছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে বলা হলেও তৃণমূলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে তাদের অনেকে নেতাকর্মীরা ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। বিপ্লবী বাংলাদেশে এই ধরনের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চলবে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে বড় বড় স্টেজ হচ্ছে, লাখ লাখ লিফলেট ছাপানো হচ্ছে—কিন্তু কোথাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্লোগান নেই। যদি জুলাইকে ধারণ করতে চান, যদি নতুন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চান, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’- এর পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, এই স্বাধীন বাংলাদেশে পরিবারতন্ত্র চলবে না। দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। রিকশাচালক, শ্রমিকের সন্তান যদি যোগ্য হয়, তাদেরও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ তৈরি করতে হবে। এটাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর মূল দর্শন।

তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে ইনসাফ, আজাদি ও ন্যায়বিচার। ‘হ্যাঁ’ মানে জুলাই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা; অবৈধ নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী কাঠামো ও পরিবারতন্ত্রের অবসান। যারা গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও দমন, পীড়নের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব, রাকসু এজিএস সাব্বির হোসেন, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. মোহাম্মদ হোসেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. ইলিয়াস প্রামাণিক, ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর সভাপতি নুরুল হুদা, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সুমন সরকার প্রমুখ।