শাহবাগ থানায় সাংবাদিকরা: মামলা নিতে গড়িমসি, ৬ ঘণ্টা ধরে আত্মগোপনে ওসি
- আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কোনো খোঁজ পাননি তারা। এতে মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন তারা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য।
তারা আগের রাতে থানার ভেতরেই সংঘটিত হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ১২ জন চিহ্নিত নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে যান। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও থানার ওসির দেখা মেলেনি। এমনকি থানার অন্য কর্মকর্তারাও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
এদিকে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম। তিনি জানান, ওসি এসে মামলার কার্যক্রম শুরু করবেন। কিন্তু রাত বাড়লেও ওসির উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি, ফলে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া আটকে থাকে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘ সময় ধরে থানায় অবস্থান করছি। কিন্তু এখনো মামলা গ্রহণের কোনো অগ্রগতি নেই। ডিসির বক্তব্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে, পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা হামলার শিকার হয়েছি, অথচ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “একদিকে আমাদের ওপর মব করে হামলা চালানো হয়েছে, অন্যদিকে মামলা গ্রহণে এমন গড়িমসি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি অবজ্ঞা এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি চরম অসম্মান। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, প্রশাসন যেন হামলাকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে।”
সাংবাদিকদের অভিযোগ, পুলিশের এমন আচরণ শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করছে না, বরং সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পরদিনই মামলা করতে থানায় গেলেও তাৎক্ষণিক কোনো আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































