ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জবিতে স্মরণসভা

খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবেন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬০ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা ও স্মরণসভা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি অবিচল থাকায় খালেদা জিয়া জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবেন। পরিবেশ নীতি প্রণয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত উদ্যোগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক নূরুল ইসলাম বলেন, অনেকে বলেছেন বেগম জিয়া সৎ ও সংগ্রামী ছিলেন। কিন্তু সংগ্রামের পেছনে যে জিনিসটি কাজ করে, সেটি হচ্ছে ধৈর্য। বেগম খালেদা জিয়া ধৈর্যশীল ছিলেন।

নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে উঠে আসতে হয়। আমরা ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব দেখতে পাই। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর সবার আস্থা ছিল।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বেগম জিয়ার শাসনামলে এবং শাসনামল-পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গে আপস না করার জন্য তাঁর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে অত্যাচার করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘মানুষের মনে জোর করে ঢোকা যায় না। আমরা দেখেছি, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মানুষের মনে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কি সক্ষম হয়েছে? না, হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে। কিন্তু বেগম জিয়া সবার মনে আছেন। এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে জনগণের মন থেকে তিনি বের হয়ে যান।’

সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেই আজ এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একে ধারণ ও লালন করতে পারছেন।’

অনুষ্ঠানে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বাদ জোহর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক নাছির আহমাদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জবিতে স্মরণসভা

খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবেন

আপডেট সময় : ১২:৩৬:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি অবিচল থাকায় খালেদা জিয়া জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবেন। পরিবেশ নীতি প্রণয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত উদ্যোগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক নূরুল ইসলাম বলেন, অনেকে বলেছেন বেগম জিয়া সৎ ও সংগ্রামী ছিলেন। কিন্তু সংগ্রামের পেছনে যে জিনিসটি কাজ করে, সেটি হচ্ছে ধৈর্য। বেগম খালেদা জিয়া ধৈর্যশীল ছিলেন।

নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে উঠে আসতে হয়। আমরা ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব দেখতে পাই। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর সবার আস্থা ছিল।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বেগম জিয়ার শাসনামলে এবং শাসনামল-পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গে আপস না করার জন্য তাঁর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে অত্যাচার করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘মানুষের মনে জোর করে ঢোকা যায় না। আমরা দেখেছি, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মানুষের মনে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কি সক্ষম হয়েছে? না, হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে। কিন্তু বেগম জিয়া সবার মনে আছেন। এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে জনগণের মন থেকে তিনি বের হয়ে যান।’

সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেই আজ এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একে ধারণ ও লালন করতে পারছেন।’

অনুষ্ঠানে ‘বেগম খালেদা জিয়া: জাতীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বাদ জোহর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক নাছির আহমাদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।