চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ব্যবস্থা দল-মত নির্বিশেষে : আইজিপি
- আপডেট সময় : ০২:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ১০১ বার পড়া হয়েছে
দেশে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের সতর্কতা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জেলা সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেন’ করা হবে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লব নিয়ে যারা ফায়দা লুটতে চায় তাদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এ কথা বলেন। এ সময় সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেন তিনি। আইজিপি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
সে লক্ষ্যে দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল জানিয়ে আইজিপি বলেন, সেই আস্থা পুনরুদ্ধারে পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেন্ট থানা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন সার্কেল অফিসার ওই থানার সার্বিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করবেন, যাতে থানায় আগত মানুষ হাসিমুখে ফিরে যেতে পারে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকে।
আইজিপি বলেন, পুলিশের ‘রি-অ্যাকশন টাইম’ ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দলমত-নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে আইজিপি বলেন, এ ক্ষেত্রে দলীয় কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্লক রেড পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, এ অভিযান চলমান রয়েছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণধর্ষণ ও ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সিআইডিকে আরো আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মামলার তদন্তের গুণগত মান বাড়ানো হবে এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ঈদের সময় সড়ক, মহাসড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও দস্যুতা রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। র্যাবও এ দায়িত্ব পালনে কাজ করছে। দেশের প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি-ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইজিপি বলেন, ঈদ সামনে রেখে পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে প্রায়ই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ ধরনের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গার্মেন্টশিল্পগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি শ্রমিক নেতা, মালিক ও বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চায়, যাতে পুলিশের বিরদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে। তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, এমনকি উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের ‘সজাগ দৃষ্টি’ থাকবে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়ার অভিযোগে পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন আইজিপি। তিনি বলেন, “বিগত সময়ে পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সংকট তৈরি হয়।জন-আস্থা উদ্ধারে ও উদ্ধারে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। ২০২৪ সালে সংঘটিত জুলাই আন্দোলনকে যারা নিজের সম্পত্তি ভাবছে, তাদের তালিকা করা হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘মিডিয়া প্রেসারের কারণেই জজমিয়া নাটক’ তৈরি হয়েছিল।”




























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































