সরকার ও দলের কার্যক্রম সমন্বয় এবং সংসদীয় কৌশল নির্ধারণে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ধারাবাহিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। পরদিন শনিবার দলীয় সংসদ সদস্যদেরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার—এই দুই দিনে গুলশান কার্যালয়ে চারটি বৈঠক হবে।
সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপদের সঙ্গেও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে অভ্যন্তরীণ করণীয় নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনা দিতেই এসব বৈঠকের আয়োজন। গুলশান কার্যালয়ের বৈঠকে মন্ত্রীদের দলীয় প্রধান হিসেবে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান। এমপিদের বৈঠকে দায়িত্বশীল নেতারা দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেবেন তাঁর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
গুলশান কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘গুলশান কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। তবে এমপিদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী থাকছেন না।
শুক্র ও শনিবার—দুই দিনে চারটি সেশন রয়েছে।’
দলীয় সূত্র আরো জানায়, বৈঠকে সংসদীয় কৌশল, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জাতীয় ইস্যু ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘আগামী শনিবার সকালে গুলশান কার্যালয়ে আমাদের (সংসদ সদস্য) বৈঠক রয়েছে।
তবে কোন বিষয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছেন ৪৯ জন সদস্য। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ১০ জন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান জনমুখী ইস্যুগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি তদারকি করছেন। মোটা চালের দাম বৃদ্ধির খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তা ছাড়া দেশে তেলের মজুদ যথেষ্ট রয়েছে বলে জানা গেছে।
