ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সিনেমা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উৎসব হলো ‘টেম্পেয়ার চলচ্চিত্র উৎসব’। এবার উৎসবের ৫৬তম আসরের ‘মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘স্কারলেট ইকোস’ (বাংলা নাম ‘রক্তিম’), যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অর্জন।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে জমা পড়া মোট ৭ হাজার ১২৫টি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে মাত্র ৬০টি চলচ্চিত্র অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে। তরুণ নির্মাতা হেমন্ত সাদীকের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পটভূমিতে তৈরি। বিশ্বের ৪৪টি দেশের নির্বাচিত ৬০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘স্কারলেট ইকোস’।

‘স্কারলেট ইকোস’ একটি ডকু-ফিকশনধর্মী চলচ্চিত্র। এতে ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই আন্দোলনের বাস্তব ফুটেজের সঙ্গে ফিকশনাল দৃশ্যের এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রে আছেন আদনান নামের এক আলোকচিত্রী ও সিঙ্গেল ফাদার। তাঁর ক্যামেরার চোখ দিয়ে ফুটে ওঠে ঢাকার রাজপথ, অনিশ্চয়তা আর গণমানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষা।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক দিলরুবা হোসেন দোয়েল জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়াই টিম মেম্বারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে আন্দোলনের ভেতরে, মাত্র একটি স্মার্টফোনে। এটির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক কলাকুশলী সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন।

চলচ্চিত্রটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত আলোকচিত্রী তাহির জামান প্রিয়কে, যিনি আন্দোলনের সময় সায়েন্স ল্যাব এলাকায় গুলিতে নিহত হন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মাতা এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত টেম্পেয়ার চলচ্চিত্র উৎসবটি এফআইএপিএফ স্বীকৃত এবং একই সঙ্গে অস্কার, বাফটা ও ইউরোপিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস কোয়ালিফাইং ফেস্টিভ্যাল। ফ্রান্সের ক্লেরমন্ট ফেরাঁন্দের সঙ্গে একমাত্র এই উৎসবই একসঙ্গে এসব স্বীকৃতি বহন করে। ফলে মূল প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়াকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ‘এলিট প্ল্যাটফর্ম’-এ প্রবেশ হিসেবে ধরা হয়।

আগামী ৪–৮ মার্চ ফিনল্যান্ডের টেম্পেয়ার শহরে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটির ৫৬তম আসর। মূল প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সেখানেই হবে ‘স্কারলেট ইকোস’–এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সিনেমা

আপডেট সময় : ০২:১৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উৎসব হলো ‘টেম্পেয়ার চলচ্চিত্র উৎসব’। এবার উৎসবের ৫৬তম আসরের ‘মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘স্কারলেট ইকোস’ (বাংলা নাম ‘রক্তিম’), যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অর্জন।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে জমা পড়া মোট ৭ হাজার ১২৫টি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে মাত্র ৬০টি চলচ্চিত্র অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে। তরুণ নির্মাতা হেমন্ত সাদীকের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পটভূমিতে তৈরি। বিশ্বের ৪৪টি দেশের নির্বাচিত ৬০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘স্কারলেট ইকোস’।

‘স্কারলেট ইকোস’ একটি ডকু-ফিকশনধর্মী চলচ্চিত্র। এতে ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই আন্দোলনের বাস্তব ফুটেজের সঙ্গে ফিকশনাল দৃশ্যের এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রে আছেন আদনান নামের এক আলোকচিত্রী ও সিঙ্গেল ফাদার। তাঁর ক্যামেরার চোখ দিয়ে ফুটে ওঠে ঢাকার রাজপথ, অনিশ্চয়তা আর গণমানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষা।

চলচ্চিত্রটির প্রযোজক দিলরুবা হোসেন দোয়েল জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়াই টিম মেম্বারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে আন্দোলনের ভেতরে, মাত্র একটি স্মার্টফোনে। এটির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক কলাকুশলী সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন।

চলচ্চিত্রটি উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত আলোকচিত্রী তাহির জামান প্রিয়কে, যিনি আন্দোলনের সময় সায়েন্স ল্যাব এলাকায় গুলিতে নিহত হন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মাতা এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত টেম্পেয়ার চলচ্চিত্র উৎসবটি এফআইএপিএফ স্বীকৃত এবং একই সঙ্গে অস্কার, বাফটা ও ইউরোপিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস কোয়ালিফাইং ফেস্টিভ্যাল। ফ্রান্সের ক্লেরমন্ট ফেরাঁন্দের সঙ্গে একমাত্র এই উৎসবই একসঙ্গে এসব স্বীকৃতি বহন করে। ফলে মূল প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হওয়াকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ‘এলিট প্ল্যাটফর্ম’-এ প্রবেশ হিসেবে ধরা হয়।

আগামী ৪–৮ মার্চ ফিনল্যান্ডের টেম্পেয়ার শহরে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটির ৫৬তম আসর। মূল প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সেখানেই হবে ‘স্কারলেট ইকোস’–এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার।