ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে সতর্ক করেছেন হরমুজ প্রণালি যেন তারা অবরুদ্ধ না করে

বড় উত্থানের পর বিশ্ববাজারে ১১% কমল তেলের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা ও হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে জ্বালানি তেলের দাম। সরবরাহ উদ্বেগে তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে উঠে যায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়ায় তেলের দাম আবার কমতে শুরু করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম ১১ শতাংশ কমে ৯০ ডলারে নেমে এসেছে।

এর পাশাপাশি রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এতেও তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে সতর্ক করেছেন হরমুজ প্রণালি যেন তারা অবরুদ্ধ না করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত করেছে, তার চেয়েও ২০ গুণ কঠোর হামলা করবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১১.১২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৪.২৭ ডলার। এর পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০.২৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৮.৬২ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে। এর পরই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে।

যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারপর কী হবে কে জানে? হয়তো আর সেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন পড়বে না। বিশ্বজুড়ে অনেক বেশি শান্তি বিরাজ করবে।

পাশাপাশি, ট্রাম্প অঙ্গীকার করেন, প্রয়োজনে তেলবাহী জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হতে সাহায্য করতে আগ্রহী তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে মত দেন, রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি ওয়াশিংটনের বিবেচনায় আছে। এর একদিন আগেই দেশটি সাময়িকভাবে ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অনুমোদন দেয়।

ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিধি-নিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি, ভারতের মতো মিত্র দেশগুলোও যাতে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা না করতে পারে, সে বিষয়েও অগ্রগামী ভূমিকায় দেখা যায় ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সৃষ্টি করে নরেন্দ্র মোদির ভারতকে জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য রুশ তেল কেনার অনুমতি দেন ট্রাম্প।

আপাতত চলতি বছরের ৩ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে রুশ তেল কিনতে পারছে নয়াদিল্লি। বিশ্লেষকদের মত, মিড টার্ম নির্বাচনের আগে অপরিশোধিত তেলের দাম নাগালের বাইরে চলে গেলে তা মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। সে কারণেই ট্রাম্প সতর্কতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের ইরান যুদ্ধ ও ভেনেজুয়েলার নেতা মাদুরোকে উত্খাতের ঘটনাগুলো মস্কোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। কম দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা দেশগুলো এখন ওই দুই দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসছে রাশিয়া। সূত্র : ট্রেডিং ইকোনমিকস, রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে সতর্ক করেছেন হরমুজ প্রণালি যেন তারা অবরুদ্ধ না করে

বড় উত্থানের পর বিশ্ববাজারে ১১% কমল তেলের দাম

আপডেট সময় : ০২:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা ও হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে জ্বালানি তেলের দাম। সরবরাহ উদ্বেগে তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে উঠে যায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়ায় তেলের দাম আবার কমতে শুরু করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম ১১ শতাংশ কমে ৯০ ডলারে নেমে এসেছে।

এর পাশাপাশি রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এতেও তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে সতর্ক করেছেন হরমুজ প্রণালি যেন তারা অবরুদ্ধ না করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত করেছে, তার চেয়েও ২০ গুণ কঠোর হামলা করবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১১.১২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৪.২৭ ডলার। এর পাশাপাশি লন্ডনের ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০.২৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৮.৬২ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে। এর পরই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে।

যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারপর কী হবে কে জানে? হয়তো আর সেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন পড়বে না। বিশ্বজুড়ে অনেক বেশি শান্তি বিরাজ করবে।

পাশাপাশি, ট্রাম্প অঙ্গীকার করেন, প্রয়োজনে তেলবাহী জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হতে সাহায্য করতে আগ্রহী তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত সপ্তাহে মত দেন, রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি ওয়াশিংটনের বিবেচনায় আছে। এর একদিন আগেই দেশটি সাময়িকভাবে ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অনুমোদন দেয়।

ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর মস্কোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিধি-নিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি, ভারতের মতো মিত্র দেশগুলোও যাতে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা না করতে পারে, সে বিষয়েও অগ্রগামী ভূমিকায় দেখা যায় ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সৃষ্টি করে নরেন্দ্র মোদির ভারতকে জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য রুশ তেল কেনার অনুমতি দেন ট্রাম্প।

আপাতত চলতি বছরের ৩ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে রুশ তেল কিনতে পারছে নয়াদিল্লি। বিশ্লেষকদের মত, মিড টার্ম নির্বাচনের আগে অপরিশোধিত তেলের দাম নাগালের বাইরে চলে গেলে তা মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। সে কারণেই ট্রাম্প সতর্কতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের ইরান যুদ্ধ ও ভেনেজুয়েলার নেতা মাদুরোকে উত্খাতের ঘটনাগুলো মস্কোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। কম দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা দেশগুলো এখন ওই দুই দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসছে রাশিয়া। সূত্র : ট্রেডিং ইকোনমিকস, রয়টার্স