মূল অংশে যান
ছবি: সমকাল

হোলির উচ্ছ্বাসে সাহিত্যের খোঁজ

গ্রন্থরাজ্য প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি লাভলু বলেন, ‘আজ হোলি বলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি। রমনা কালীমন্দিরে যারা এসেছেন, অনেকে সেখান থেকে মেলায় ঢুঁ মারছেন। বই দেখছেন, ছবি তুলছেন। অনেকেই কিছু না কিছু কিনেও নিচ্ছেন।’

ভাষাপ্রকাশ স্টলে দেখা যায়, চিরায়ত বাংলা সাহিত্যের নতুন সংস্করণ সাজানো। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ও ছোটগল্পের বিভিন্ন সংস্করণ আকর্ষণীয় প্রচ্ছদে সাজানো। প্রকাশক মিজান বলেন, ‘মেলায় এবার চিরায়ত সাহিত্যের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের বইগুলো দর্শনার্থীরা আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। অনেকে কিনছেনও। শেষ পর্যন্ত মানুষ ঘুরেফিরে চিরায়ত সাহিত্যই খোঁজে।’

কবি প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক সজীব জানান, গত পাঁচ দিনে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। নতুন মোড়কে পুরোনো বই এখনও খুঁজে ফিরে সবাই, বিশেষ করে তরুণরা। তিনি বলেন, ‘অনেক তরুণ পাঠকই উপহার দেওয়ার জন্য ক্ল্যাসিক বই বেছে নিচ্ছেন। রঙের উৎসবের দিনেও তারা বইকে সঙ্গী করতে চাইছেন। এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।’

শুধু রবীন্দ্রনাথ বা শরৎচন্দ্র নন; বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইও ভালো বিক্রি হচ্ছে। এশিয়া পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চিরায়ত সাহিত্যের পাশাপাশি অনূদিত থ্রিলার বইও বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এ ধরনের বইয়ের চাহিদা বেশি।’

কুঁড়েঘর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মো. রাকিব হোসেনের পর্যবেক্ষণও অভিন্ন, তরুণরা এখন ক্ল্যাসিকের পাশাপাশি থ্রিলার আর সায়েন্স ফিকশন নিচ্ছেন বেশি। তারা বৈচিত্র্য চান, তবে ভিত্তিটা রাখছেন চিরায়ত সাহিত্যে।
তবে কবিতার বইয়ের প্রতি আগ্রহ কিছুটা কম বলেও জানান কয়েকটি স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐশী ধরের গালে সবুজ-লাল আবিরের ছাপ। বললেন, ‘সকালে রমনা কালীমন্দিরে দোল খেলেছি। ভাবলাম, এত কাছে এসে বইমেলায় না ঢুকে ফিরি কীভাবে? তাই মেলায় চলে এসেছি।’ তিনি জানান, এদিন তিনি রবীন্দ্রনাথের একটি উপন্যাস এবং একটি সায়েন্স ফিকশন বই কিনেছেন।

মূলমঞ্চের আয়োজন ও নতুন বই
মঙ্গলবার মেলার নতুন বই আসে ৬৫টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– অদ্ভুত ৫০– ইশতিয়াক হাসান (কথাপ্রকাশ), এবং জীবনানন্দ– ড. মিজান রহমান (ভাষাপ্রকাশ), অ-স্তর– নাজমুল ফয়সাল (এশিয়া পাবলিকেশন), ফিরে দেখা বনি ইসরায়েল– রফিকুল ইসলাম (ঐতিহ্য), আমি নারী: আমি পেশাজীবী– স্নিগ্ধা বাউল (সময়)।

বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ: তাজউদ্দীন আহমদ’ শীর্ষক আলোচনা। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ যেভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে উঠে এসেছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পরিশীলিত মনোভাব, শিক্ষিত মনন ও ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টিই তাঁকে নেতা করে তুলেছিল।’

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আলী আহমদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি সাখাওয়াত টিপু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন এ কে এম দিদার উদ্দিন ও অনন্যা লাবণী। এ ছাড়া ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐকান্তিক শিল্পীগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদের পরিবেশনা।

বুধবারের আয়োজন 
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: সন্জীদা খাতুন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করবেন ভীষ্মদেব চৌধুরী। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মতামত দিন