গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের দ্বন্দ্ব
প্রশ্ন: ইসলামে গনতন্ত্রের হুকুম কি?
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد الله رب العلمين والصلاةوالسلام على سيد الانبياء والمرسلين وعلى اله واصحابه اجمعين
শুকরিয়া আদায় করছি ঐ মহান রবের যিনি সমস্ত পৃথিবীর পালন কর্তা, এবং সালাত সালাম পেরন হউক সরদারে দো আলমের উপর এবং তিনার পরিবারের উপর এবং তিনার সকল সাহাবায়ে কেরামের উপর।
আসুন এবার আমরা জেনে নি ইসলামের দৃষ্টিতে গনতন্ত্রের হুকুম কি।
গণতন্ত্র একটি মানব রচিত মতবাদ। আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে গেটিসবার্গের এক জনসভায় গণতন্ত্রের আধুনিক সংজ্ঞা দেন এভাবে যে, Democracy is the government of the people by the people and for the people. অর্থাৎ গণতন্ত্র এমন একটি সরকার ব্যবস্থা, যা জনগণের উপর জনগণের দ্বারা পরিচালিত জনগণের শাসন ব্যবস্থা বুঝায়। (সৈয়দ মকসুদ আলী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পৃঃ ২৮৫) এর মানে- ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) আরবী শব্দ নয়। এটি গ্রিক ভাষার শব্দ। দুটি শব্দের সমন্বয়ে শব্দটি গঠিত: Demos অর্থ- সাধারণ মানুষ বা জনগণ। আর দ্বিতীয় শব্দটি হচ্ছে-KRATIA অর্থ- শাসন। অতএব, ডেমোক্রেসি শব্দের অর্থ হচ্ছে- সাধারণ মানুষের শাসন অথবা জনগণের শাসন।
জনগণ নিজেই নিজেকে শাসন করা। তাই এটি ইসলাম বিরোধী মতবাদ। কেননা, শাসনের অধিকার আল্লাহর অধিকার। কোনো মানুষকে আইন প্রণয়ন করার অধিকার দেয়া জায়েয নেই; সে মানুষ যেই হোক না কেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيْكٌ فِي الْمُلْكِ
রাজত্বে তাঁর কোন শরীক নেই। (বনী ইসরাঈল ১১১)
তিনি আরো বলেন,
إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
আল্লাহ ব্যতীত কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ব্যতীত তোমরা অন্য কারু ইবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। (ইউসুফ ৪০)
গণতন্ত্রের সঙ্গে ইসলামের দ্বন্দ্ব
ক্ষমতা চাওয়া
আমাদের সকলের কাছেই এটা পরিচিত যে রাসুল (ﷺ) সেই ব্যক্তিকে কোন কর্তৃত্ব দেন নি যে নিজ থেকে ক্ষমতা পাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে৷ এক হাদিসে এসেছে রাসুল বলেছেন,
قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّا لاَ نُوَلِّي هَذَا مَنْ سَأَلَهُ وَلاَ مَنْ حَرَصَ عَلَيْهِ.
“আমরা সেই ব্যক্তিকে কোনো দায়িত্ব দিই না, যে তা প্রার্থনা করে।” বুখারী ৭১৪৯
গণতন্ত্রে, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেকে যোগ্য বলে দাবি করে এবং ক্ষমতা লাভের জন্য তৎপর হয়। এর জন্য বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা চালায়, দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করে, ভবিষ্যতের ওয়াদা করে। অথচ এমন লোককে ক্ষমতা দেওয়ার প্রতি রাসুল (ﷺ) অনুৎসাহ প্রদান করেছেন।
বিভেদ সৃষ্টি
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বহু দল থাকে, সকলেই ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। প্রায় সময় দেখা যায়, দুই দলে মারামারি, অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে তর্ক বিতর্ক, দলাদলি, শত্রুতা, এক দল অন্যদলকে পছন্দ করে না, এক দল অপর দলের উপর জুলুম করে। এই দলীয় কোন্দল তাদের মাঝে চরম অশান্তি ও দুরত্বের সৃষ্টি করে।
অপর দিকে ইসলামে ঐক্যবদ্ধ থাকার উপর চরম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন কোরআনে আল্লাহ বলেছেন
وَ اعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰهِ جَمِیۡعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوۡا ۪
আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর, বিভক্ত হয়ো না। সুরা আলে ইমরান আয়াত ১০৩
আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায়। হাদিসে এমনও এসেছে,
“ مَنْ أَتَاكُمْ وَأَمْرُكُمْ جَمِيعٌ عَلَى رَجُلٍ وَاحِدٍ يُرِيدُ أَنْ يَشُقَّ عَصَاكُمْ أَوْ يُفَرِّقَ جَمَاعَتَكُمْ فَاقْتُلُوهُ ” .
যে, যে ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ উম্মাতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াস চালাবে, তোমরা তরবারি দিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দেবে, সে যে কেউ হোক না কেন। (মুসলিম ১৮৫২)
নির্বাচনে সকলেই সমান
এই পয়েন্টটা পূর্বের কারণগুলোর চাইতেও জঘন্য। গণতন্ত্রে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ছোট, বড়, বিজ্ঞ, মুর্খ, আধা পাগল, মদখোর, জুয়ারি, সুদখোর, ঘুসখোর, চোর, ডাকাত, বাটপার, মানুষের হক আত্মসাৎকারী, ওজনে কম দেওয়া ব্যক্তি, জিনাকারী, মদ ব্যবসায়ী, পতিতালয়ের মালিক, মিথ্যাচারী, আমানতের খিয়ানতকারী, নাস্তিক, মুরতাদ, কাফের, মুশরিক, ইসলাম বিদ্বেষী সবাই ভোট দিতে পারে। নির্বাচনে ভোটাধিকারে এরা সকলেই সমান।
এটা দ্বীন ইসলামের মেজাজ নয়। একজন ১৮ বছরের ছেলে ও একজন ৩০-৩৫ বছরের পুরুষের আকলের পরিপক্বতা কি এক হওয়া সম্ভব? একজন শিক্ষিত, অভিজ্ঞ, বিজ্ঞ লোকের এবং একজন অশিক্ষিত, অনভিজ্ঞ ও অজ্ঞ লোক কি কখনো সমান হতে পারে! তাদের রায়, বিচার, চিন্তা কি কখনো সমান হতে পারে! একজন কাফেরের চাওয়া ও মুসলিমের চাওয়া কি এক হওয়া সম্ভব? শরিয়াহ কায়েমের ক্ষেত্রে সেক্যুলার লিবারেল মুরতাদ, ইসলাম বিদ্বেষী, নাস্তিকদের কোন ভোট কীভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে!
মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন:
“এই প্রচলিত গণতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে একটি মনগড়া ও মিথ্যা ধারণা। বিশেষত এমন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, যা মুসলিম ও অমুসলিমদের সমন্বয়ে গঠিত, তা তো প্রকৃতপক্ষে একটি অমুসলিম শাসনব্যবস্থাই হবে।
মালফুজাতে থানভী, পৃষ্ঠা-২৫২; এছাড়াও দেখুন “আহসানুল ফাতাওয়া”, কিতাবুল জিহাদ, অধ্যায়: সিয়াসাতে ইসলামিয়া।
আর বাকি অপরাধীরাতো চাইবেই এমন কেউ আসুক যার শাসন আমলে তারা কোন বাধা ছাড়া যেন অপরাধ করে বেড়াতে পারে। মুফতী আযম দারুল উলুম দেওবন্দ, মাহমুদ হাসান গাংগুহী (রহ.) বলেন,
“আজকাল গণতন্ত্রের অর্থ হলো যে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলা, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, বুদ্ধিমান বা অজ্ঞ সকলকে ভোট দেয়ার অধিকার প্রদান করা হয় এবং তাদের ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে শাসক নির্বাচিত হয়। ইসলামে এ ধরনের গণতন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং একজন সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এটির মধ্যে কোনো উপকারিতা খুঁজে পেতে পারে না।
ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, খণ্ড ৪, কিতাবুস সিয়াসাহ।
গণতন্ত্র মানুষের মধ্যে সমতার ক্ষেত্রে ইসলামের বিরোধিতা করে, কুফফারদের মুসলিমদের সমান করে, যেখানে আল্লাহ বলেন,
اَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِیْنَ كَالْمُجْرِمِیْنَ,
مَا لَكُمْ كَیْفَ تَحْكُمُوْنَ
“তবে কি আমি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের মতই গণ্য করব? তোমাদের কী হল, তোমরা কিভাবে ফয়সালা করছ?” সুরা কলাম আয়াত, ৩৫-৩৬
গণতন্ত্রে, ধার্মিক-অধার্মিক, জ্ঞানী মুর্খ, সমকামী বা পৃথিবীতে দুর্নীতি ছড়ানোর ব্যক্তিরা সমান—এবং এটি একটি মহা অন্যায়।
নারী নেতৃত্ব
নারী নেতৃত্ব সুস্পষ্ট ভাবে হারাম, হানাফি, হাম্বলী, শাফেয়ী, মালেকি, প্রায় সকলেই এই বিষয়ে একমত, এমনকি এই বিষয়ে ইজমা রয়েছে বসে সকলেই স্বীকার করেন। [১]শাফেয়ীগণতো নারী শাসককে শাসকই মানেন না, তাদের নিকট নারী শাসক হলে তাকে অপসারণ বৈধ। আর কেউ যদি জায়েজ বলেও তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ তাদের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য, ইজমার বিরোধী এবং জায়েজ হওয়াটাও হকের নিকটবর্তী নয়।
অথচ গণতন্ত্র নারী নেতৃত্বকে আরো বেশি উৎসাহ প্রধান করে, তাদের জন্য নির্দিষ্ট আসনের কথা বলে, তাদের ক্ষমতায়নের কথা বলে, যারা এর বিরুদ্ধে তাদেরকে দমনের বুদ্ধি দেয়।
[১]মারাতিবুল ইজমা (ইবনে হাযাম রহঃ) পৃ: ১২৬; আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ২১/২৭০; শারহুস সুন্নাহ, ১০/৭৭; ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; ১৩/১৭; মাজিল্লাতুল-মুজতামাঈ: সংখ্যা: ৮৯০
সকল ক্ষমতার অধিকারী জনগণ?
গণতান্ত্রিক সরকারকে বলা হয়ে অব দা পিপল, ফর দা পিপল, বাই দা পিপল। জনগণ যা চাইবে তাই হবে, তারা ইসলাম চাইলে ইসলাম, তারা না চাইলে ইসলাম চলবে না।
এই পয়েন্টে দুইটা সমস্যা প্রতীয়মান।
(এক)
আল্লাহর একচ্ছত্র ক্ষমতার সাথে শরিক
অথচ আল্লাহই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতা অধিকারী, তিনিই একমাত্র একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখেন হুকুম দানে, বিধান শুধু আল্লাহই এবং এর বিপরীতে বিধান দেওয়ার কারো অধিকার নেই , তিনিই ক্ষমতা দেন ও তিনিই কেড়ে নেন।
সূরা আল বাকারা আয়াত ২৮৪-২৮৫, সূরা আন নূর, আয়াত ৪২, বনী ইসরাঈল আয়াত ১১১, আলে ইমরান আয়াত ২৬, ১৮৯,
মুফতি তাকি উসমানি (হাফি.) বলেন,
‘পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যার ভিত্তি জনগণের শাসনক্ষমতার চেতনার ওপর, তা সুনিশ্চিতভাবে ইসলাম পরিপন্থী। কেননা, ইসলামের ভিত্তি হলো “আল্লাহ সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক” এ বিশ্বাসের ওপর। কুরআন মাজিদে যা সংক্ষেপে إن الحكم إلا لله তথা “শাসনক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর-ই জন্য” বলে ইরশাদ হয়েছে। সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় পশ্চিমা গণতন্ত্রকে হক মনে করা বর্তমান যুগের জঘন্যতম ভ্রান্তিগুলোর অন্যতম।
ফাতাওয়ায়ে উসমানি: ৩/৫০৭, প্রকাশনী: মাকতাবা মাআরিফুল কুরআন, করাচি
(দুই)
শরিয়াহকে মানুষের ইচ্ছার অধীন করা বা আল্লাহর আনুগত্যে শরিক
এই বিষয়ে মাওলানা হাকিম আখতার (রহ.) অনেক সুন্দর একটা কথা বলেছেন৷ তিনি বলেন,
“ইসলামে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই, যেখানে বেশি ভোট পড়বে, সেখানেই যেতে হবে। বরং ইসলামের সৌন্দর্য হলো, সারা দুনিয়া একদিকে হলেও মুসলমান শুধু আল্লাহরই অনুসরণ করবে। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে নবুওয়াতের ঘোষণা দেন, তখন ভোট বা নির্বাচনের দৃষ্টিকোণ থেকে কেউই নবীর পক্ষে ছিল না। নবীর কাছে শুধু নিজের ভোট ছিল। কিন্তু নবী কি আল্লাহর বার্তা থেকে বিরত থেকেছিলেন এই কারণে যে গণতন্ত্র তার বিপক্ষে ছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট তার বিপক্ষে ছিল? কখনোই নয়।
খাজাইনে মারিফাত ও মুহাব্বাত, পৃষ্ঠা-২০৯
আবু কাতাদা ওমর বিন মাহমুদ বলেন,
‘যে-সব লোক ইসলামকে গণতন্ত্রের সাথে এক করে দেখতে চায়, তাদের প্রচেষ্টা যিন্দীকদের মত, যারা আল্লাহর দ্বীনকে মানুষের প্রবৃত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য পরিবর্তন করে ফেলে। … ইসলাম জনগণকে বিধানগত ক্ষেত্রে পছন্দ-অপছন্দের স্বাধীনতা দেয়নি; যেহেতু জনগণের জন্য ইসলামি বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া এবং শাসককে মুসলিম হওয়া আবশ্যকীয়। অপরদিকে গণতন্ত্র জনগণকে তাদের উপর প্রযোজ্য বিধি-বিধান প্রণয়নে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। এটাই গণতন্ত্রের মৌলিক তত্ত্ব, যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিনষ্টকারী’।
আল-জিহাদ ওয়াল ইজতিহাদ, পৃঃ ১০৩-১০৪
মুকবিল বিন হাদি আল ওয়াদী (রহ) বলেন,
গণতন্ত্র কুফরি (অবিশ্বাস), কারণ এর অর্থ হলো জনগণ নিজেরাই নিজেদের শাসন করে। এর অর্থ হলো কোনো কিতাব (আল্লাহর কিতাব) নেই, কোনো সুন্নাহ নেই, কোনো ইসলাম নেই এবং ব্যভিচার ও সমকামিতার অনুমতি দেয়া হয়…।
আল্লাহর হুকুমের সাথে সাংঘর্ষিক
গণতন্ত্র আমাদেরকে কুফুরি আইন দিয়ে শাসন এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংসদ পরিবর্তন, আইন প্রণয়ন ও পরিবর্ধন, সংশোধন করার সুযোগ দিয়ে রেখেছে। অথচ আল্লাহ আইন পরিবর্তন, পরিবর্ধন, প্রতিস্থাপন, বাতিল করা সুস্পষ্ট কুফুরি। আল্লাহর আইনের বিপরীতে আইন তৈরি সরাসরি শিরক।
সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩১
সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৯,
সূরা আল মায়িদা, আয়াত ৮৭
তিরমিজি হাদীস নং,৩০৯৫
তে এই বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
মূল কথা ইসলাম, শরিয়ত আপনার চাওয়া না চাওয়ার উপর নির্ভরশীল না, আপনি মুসলিম হলে আপনাকে ইসলামকে সাধরে গ্রহণ করেই নিতে হবে, না হয় আপনি মুসলিমই না। আপনি যদি ইসলাম না চান তাহলে মুরতাদ হয়ে যেতে পারেন, মুসলিম পরিচয় দিয়ে ইসলাম চাইনা বলার সুযোগ আপনার নিকট নেই। মানুষ চাইবে তাহলেই ইসলাম অনুসারে দেশ চলবে এই কথাটাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ও তার দ্বীন ইসলামের অপমান করার নামান্তর।
তবে যদি দেশের জনগণ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সরকার নির্বাচনের জন্য এ পদ্ধতির অনুসরণ করতে বাধ্য হয় এবং এ ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো উপায় না থাকে তাহলে যেন গোটা ময়দান দুর্নীতিবাজ ও নাস্তিকদের হাতে চলে না যায়; বরং সংসদে গিয়ে এর বিরোধিতা করা যায় এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে সাধ্যানুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অকল্যাণ ও দুর্নীতি রোধ করা যায় — তখন এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কল্যাণের দিক বিবেচনা করে কোনো কোনো আলেম মনে করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক।
যেমন,
১. ইতিপূর্বে মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. জাওয়াহিরুল ফিকহ কিতাবে লিখেছেন যে, ইসলামের দৃষ্টিতে ভোট হচ্ছে তিনটি বিষয়ের সমষ্টি। ১. সাক্ষ্য প্রদান ২. সুপারিশ ও ৩. প্রতিনিধিত্বের অথরিটি প্রদান।
২. আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটি ‘ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা’-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তারা উত্তরে লিখেছেন,
إلا إذا كان من رشح نفسه من المسلمين ومن ينتخبون يرجون بالدخول في ذلك أن يصلوا بذلك إلى تحويل الحكم إلى العمل بشريعة الإسلام ، واتخذوا ذلك وسيلة إلى التغلب على نظام الحكم ، على ألا يعمل من رشح نفسه بعد تمام الدخول إلا في مناصب لا تتنافى مع الشريعة الإسلامية
‘তবে কোন মুসলমান যদি এ উদ্দেশ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয় কিংবা অন্যকে নির্বাচিত করে যে, এর মাধ্যমে এ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে ইসলামী শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকে তারা বর্তমান শাসনব্যবস্থার উপর আধিপত্য বিস্তার করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে সেটা জায়েয। তবে, সে ক্ষেত্রেও যে ব্যক্তি প্রার্থী হবেন তিনি এমন কোন পদ গ্রহণ করতে পারবেন না যা ইসলামী শরিয়ার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।’ ( ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা ২৩/৪০৬, ৪০৭)
৩. দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত ‘মাসিক দারুল উলুম’-এ মুফতি মুহাম্মাদ নিমাবি কাসেমী বলেন,
اگر ہندوستان کی صورتِ حال کا جائزہ لیا جائے ؛تو معلوم ہوگا کہ یہاں حکومت کی بنیادالیکشن پرہے اور الیکشن… انجام کار کبھی ایسی نا پسندیدہ پارٹی یا افراد مسندِ اقتدار پر فائز ہوجاتے ہیں؛ جو مسلمانوں کے لیے سم ِقاتل کے مانند ہوتے ہیں۔ …لہٰذ اجمہوری ممالک میں الیکشن میں ووٹ ڈالنے کے عمل کومحض مباح نہیں؛ بلکہ واجب سے کم درجہ نہیں قرار دیا جاسکتاہے۔
যদি ভারতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, এখানে সরকার গঠনের মূল ভিত্তি হল, নির্বাচন। ফলে অনেক সময় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দল বা ব্যক্তি ক্ষমতায় চলে আসে যে মুসলমানদের জন্য প্রাণ-বিনাশী বিষের মত হয়। সুতরাং (এরকম পরিস্থিতিতে) গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে ভোট দেয়া কেবল বৈধ নয়; বরং ওয়াজিব থেকে কম বলা যাবে না। (বিস্তারিত দেখুন-মাসিক দারুল উলুম, জুমাদাল উলা ১৪৩৪ হি./মার্চ ২০১৩ ইং)
৪. মুফতি আব্দুল মজিদ দীনপুরী রহ. লিখেছেন,
ووٹ امانت ہے اور اس کا صحیح استعمال اسلامی فریضہ ہے۔
ভোট আমানত এবং এর সঠিক ব্যবহার দীনী দায়িত্ব। (বিস্তারিত দেখুন-জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া, বিন্নুরি টাউন, করাচী থেকে প্রকাশিত মাসিক আল বাইয়িনাত জুমাদাল উখরা ১৪৩৪ হি)
আমাদের করনীয়
ইসলামি হুকুমত কায়েম করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে
১/ কেতাল
২/ দাওয়াত
আর বর্তমানে আমাদের দেশে কেতালের মাধ্যমে হুকুমত বাস্তবায়ন করার পরিবেশ নাই, তাই দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে, এবং যদি জনগণ ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সরকার নির্বাচনের জন্য এ পদ্ধতির অনুসরণ করতে বাধ্য হয় এবং এ ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো উপায় না থাকে তাহলে যেন গোটা ময়দান দুর্নীতিবাজ ও নাস্তিকদের হাতে চলে না যায়; বরং সংসদে গিয়ে এর বিরোধিতা করা যায় এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে সাধ্যানুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অকল্যাণ ও দুর্নীতি রোধ করা যায় — তখন এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কল্যাণের দিক বিবেচনা করে নাজায়েজ মনে করে ওযর হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করাকে কোন কোন আলেম জায়েজ করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে সটিক ইসলাম বুঝার এবং মানার তৌফিক দান করুক।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী মোহাম্মদ ওমর ফারুক
খতিব,আল আকসা জামে মসজিদ মাছিম পুর,ফেনী




































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































