ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়সহ উত্তরের ৫ জেলায় চায়ের উৎপাদন বেড়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার সমতল ভূমিতে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে। গত বছর শেষে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় চা উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে সাড়ে ৫৮ লাখ কেজি। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে উত্তরের পাঁচ জেলার সমতল ভূমিতে চা উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৮ লাখ ৫১ হাজার ৯০১ কেজি বেশি। উত্তরের যে পাঁচ জেলায় এই চা উৎপাদিত হয়েছে, সেগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট। সিলেট ও চট্টগ্রামের পর উত্তরাঞ্চলের এই পাঁচ জেলা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে চা উৎপাদনের দিক থেকে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ নিয়ে টানা পাঁচবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড ধরে রেখেছে এসব জেলা।

চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সারা দেশে জাতীয়ভাবে চা উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার কেজি। সেখানে উত্তরের পাঁচ জেলাতেই উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি কেজির বেশি। ২০২১ সালে উত্তরের পাঁচ জেলা মিলে সম্মিলিতভাবে চা উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। এসব জেলার সমতল ভূমিতে ওই বছর ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এরপর ২০২২ সালে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ২২৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার ২৩০ কেজি, ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ১৫১ কেজি চা উৎপাদিত হয়।

চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে বেশ কয়েকটি কোম্পানি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চায়ের বাগান গড়ে তোলে। এর পর থেকে ক্ষুদ্র চাষি পর্যায়ে চা চাষ ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চগড়ের পর ২০০৭ সালে লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও এবং ২০১৪ সালে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় চা চাষ শুরু হয়।

চা বোর্ডে তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত ১২টি ও অনিবন্ধিত ১৮টি বড় চা-বাগান (২৫ একরের বেশি) রয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ২২৫টি নিবন্ধিত ও ৬ হাজার ১৪৬টি অনিবন্ধিত ক্ষুদ্রায়তনের চা-বাগান (২৫ একরের কম) আছে। ২০২৪ সালে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১১ হাজার ৫২৭ একর জমিতে চা চাষ হলেও এবার তা বেড়ে ১১ হাজার ৬০০ একরে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চা চাষের জমি বেড়েছে ৭৩ একরের বেশি।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের চা চাষের পরিধি ও উৎপাদন বিবেচনায় ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ে চায়ের তৃতীয় নিলাম কেন্দ্র (অনলাইনভিত্তিক) চালু করা হয়। উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৫২টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা অনুমোদন নিয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলায় ৩০টি ও ঠাকুরগাঁও জেলায় ১টি কারখানা চালু রয়েছে।

চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, গত বছর চা-চাষিরা কাঁচা চা-পাতার ভালো দাম পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে চা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এ জন্য চা চাষের পরিধিও কিছুটা বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরও চায়ের উৎপাদন আরও বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পঞ্চগড়সহ উত্তরের ৫ জেলায় চায়ের উৎপাদন বেড়েছে

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার সমতল ভূমিতে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে। গত বছর শেষে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় চা উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে সাড়ে ৫৮ লাখ কেজি। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

চা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে উত্তরের পাঁচ জেলার সমতল ভূমিতে চা উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৮ লাখ ৫১ হাজার ৯০১ কেজি বেশি। উত্তরের যে পাঁচ জেলায় এই চা উৎপাদিত হয়েছে, সেগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট। সিলেট ও চট্টগ্রামের পর উত্তরাঞ্চলের এই পাঁচ জেলা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে চা উৎপাদনের দিক থেকে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ নিয়ে টানা পাঁচবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড ধরে রেখেছে এসব জেলা।

চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সারা দেশে জাতীয়ভাবে চা উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার কেজি। সেখানে উত্তরের পাঁচ জেলাতেই উৎপাদিত হয়েছে ২ কোটি কেজির বেশি। ২০২১ সালে উত্তরের পাঁচ জেলা মিলে সম্মিলিতভাবে চা উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। এসব জেলার সমতল ভূমিতে ওই বছর ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এরপর ২০২২ সালে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৫৯ হাজার ২২৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার ২৩০ কেজি, ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ১৫১ কেজি চা উৎপাদিত হয়।

চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে বেশ কয়েকটি কোম্পানি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চায়ের বাগান গড়ে তোলে। এর পর থেকে ক্ষুদ্র চাষি পর্যায়ে চা চাষ ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চগড়ের পর ২০০৭ সালে লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও এবং ২০১৪ সালে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় চা চাষ শুরু হয়।

চা বোর্ডে তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত ১২টি ও অনিবন্ধিত ১৮টি বড় চা-বাগান (২৫ একরের বেশি) রয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ২২৫টি নিবন্ধিত ও ৬ হাজার ১৪৬টি অনিবন্ধিত ক্ষুদ্রায়তনের চা-বাগান (২৫ একরের কম) আছে। ২০২৪ সালে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১১ হাজার ৫২৭ একর জমিতে চা চাষ হলেও এবার তা বেড়ে ১১ হাজার ৬০০ একরে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চা চাষের জমি বেড়েছে ৭৩ একরের বেশি।

এদিকে উত্তরাঞ্চলের চা চাষের পরিধি ও উৎপাদন বিবেচনায় ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ে চায়ের তৃতীয় নিলাম কেন্দ্র (অনলাইনভিত্তিক) চালু করা হয়। উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৫২টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা অনুমোদন নিয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলায় ৩০টি ও ঠাকুরগাঁও জেলায় ১টি কারখানা চালু রয়েছে।

চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, গত বছর চা-চাষিরা কাঁচা চা-পাতার ভালো দাম পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে চা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এ জন্য চা চাষের পরিধিও কিছুটা বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরও চায়ের উৎপাদন আরও বাড়তে পারে।