ওসমান হাদির দর্শন মানুষের ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করতে পারে: ঢাবি উপাচার্য
- আপডেট সময় : ১২:২৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শহীদ ওসমান বিন হাদিকে স্মরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি, তাঁর জীবন ছিল খুব অল্প। কিন্তু ওই অল্প সময়ের ভেতর তিনি একটি আদর্শকে মোটামুটি স্থাপন করতে পেরেছেন। ওসমান হাদির দর্শন ও আদর্শ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানুষকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করতে পারে। সুতরাং তাকে কেন্দ্র করে আমরা একটি ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারি।’ কথাগুলো বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান।
শহীদ ওসমান বিন হাদিকে স্মরণ করে আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। হাদি এই বিভাগেরই শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য আরও বলেন, ‘সংস্কৃতি নিজেই আপনার এবং বাইরের সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। যেটাকে আমরা অনেক সময় এলিটিস্ট বা সুশীল সমাজের বিষয় বলে সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে দিই, শরীফ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে এটিই আসলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।’
এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে ওসমান হাদির সরাসরি শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হাদি আমার সরাসরি ছাত্র ছিল কিন্তু আনফরচুনেটলি আসলে ক্যাম্পাসে অবাধে আসা বা ক্লাসে আসার একটা সমস্যা ছিল তখন। আমি এটা জানতাম না। কারণ, হাদি মাঝে মাঝে আমার ক্লাসে আসত। আমি পরে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি পরীক্ষা মিস করেছ, কী কারণে পরীক্ষা মিস করেছ? সে বলল, “স্যার আমার সমস্যা আছে।” আমি অনেক পীড়াপীড়ি করার পরে বলল যে, “স্যার আমার ক্যাম্পাসে আসতে সমস্যা আছে।” তখন বললাম যে তুমি তাহলে দুপুরের পরে এসে যেকোনো দিন পরীক্ষা দিয়ে যেও। তো এটাই তাঁর সাথে আমার ইন্টারেকশন ছিল।’
এই শিক্ষক বলেন, ‘ওসমান হাদি একটি আদর্শ ধারণ করত। যার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি ন্যাশনালিজম (জাতীয়তাবাদ)। যদি আমরা এভাবে দেখি যে অনেকগুলো ফুল আছে, সেই ফুলের তোড়ার ভেতরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ছিল তার কেন্দ্রবিন্দুতে।’
আলোচনা সভায় ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলের সেই নির্যাতন, গুম, খুন সবকিছু সহ্য করতে করতে তারপর আমাদেরকে ৫ই আগস্ট পেতে হয়েছে। সেই ৫ই আগস্টকে আপনারা বাঁচিয়ে রাখার জন্য জুলাইয়ের পরে আপনারা কী করেছেন? অনেকে হয়তো অনেক জায়গায় কাজ করছে। কিন্তু আন্তরিকতার সঙ্গে একেবারে নিজের জীবনটা পর্যন্ত দিয়ে দিয়ে যে মানুষটা কাজ করে গেছে, তিনি শরিফ ওসমান বিন হাদি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার মারুফ হোসেন ওসমান হাদিকে নিয়ে লেখা নিজের একটি কবিতা স্মরণসভায় আবৃত্তি করেন। তার কবিতার নাম ‘হাদি হব’।
এ ছাড়া আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নাসিমা খাতুন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তৈয়েবুর রহমানসহ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































